চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নালিশি আবেদন আমলে নিয়ে দ্রুত মামলা রেকর্ড করার জন্য চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ জুন) দুপুরে চকরিয়ার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার আবদুচ ছালামের পুত্র মো. ফরিদুল আলম আদালতে উপস্থিত হয়ে নালিশী দরখাস্তটি দাখিল করলে বিচারক মো. জাহিদ হোসাইন এ নির্দেশ দেন।
নালিশি মামলায় অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন, উত্তর লক্ষ্যারচরের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান বেদার ও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের হাটখোলা মুড়ার মৃত নূর আহমদের ছেলে নাজেম উদ্দিন।
অভিযোগে ফরিদুল আলম জানান, লামার ফাইতংয়ের রাইম্যাখোলায় বাদীসহ তিনজনের অংশীদারিত্বে এসএমবি নামক ইটভাটা রয়েছে। অপর দুই অংশীদার এক নম্বর বিবাদী চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রাপ্ত শেয়ার জোরপূর্বক হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর অংশ হিসেবে গত ২৬ মে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাদী ফরিদুল আলমকে ব্যবসায়িক কথা আছে বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান উপজেলা চেয়ারম্যান। এ সময় বাড়িতে গিয়ে দেখেন সেখানে আগে থেকে দুই শেয়ারহোল্ডার হাবিবুর রহমান বেদার ও নাজেম উদ্দিন অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় অতর্কিত বন্দুক ঠেকিয়ে এবং শারীরিকভাবে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০০ টাকার তিনটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে নেন চেয়ারম্যান। একইসঙ্গে পকেটে থাকা ইট বিক্রির ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা কেড়ে নেন তারা। এমনকি চেয়ারম্যান তার কাছ থেকে নগদ ৮০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করেন।
ফরিদুল আলম বলেন, ‘আমি আদালতে মামলা করতে এসেছি জেনে, মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদী। এ সময় আমার হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
বাদীপক্ষের কৌসুলি আইনজীবী মো. শাহ আলম বলেন, ‘দীর্ঘ শুনানি এবং বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. জাহিদ হোসাইন দ্রুত থানায় মামলা রেকর্ড করার জন্য চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।’
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আদালতের নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘অভিযোগটি সত্য নয়। আমি আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবো।’
Reviewed by MD.ANISUL HOQUE BABUL
on
Wednesday, June 14, 2023
Rating:
