NEWS

behavior="scroll"scrollamount="3" scrolldelay="1" direction="left"style="height: 30px; color: #247f14; font-size: 20px;"> News 24 satkania |

Breaking News

https://news24satkania.blogspot.com/2023/06/breaking-news.html

কুড়িগ্রামে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী, ঈদের আগে বন্যার শঙ্কা

 কুড়িগ্রামে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী, ঈদের আগে বন্যার শঙ্কা


উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গাধর নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও চরাঞ্চলের নিম্নভূমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি বাড়ায় জেলার ৯ উপজেলার অন্তত ২০টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে অর্ধশতাধিক চর।

ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে দুর্ভোগে পড়েছেন নদ-নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যায় নদীভাঙনে ভিটেহারা মানুষ। বসতবাড়ি হারিয়ে অনেকে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গবাদিপশু নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের তথ্যমতে, আজ বুধবার সকাল নয়টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৬৫ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি সদর পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভাঙনে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের একমাত্র বাজারের একাংশ এরই মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পেটে চলে গেছে। মঙ্গলবার সকালে

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা চরের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, গত তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চরের প্রায় ২০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পাশের আইরমারীর চরের ভাটিতে প্রায় ৩০টি বাড়িতে পানি উঠেছে বলে তিনি জানান।

নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের গরুভাসার চরের বাসিন্দা মো. তাজেল উদ্দীন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ তাঁর গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নামাপাড়ায় প্রায় ১০টি বাড়িতে পানি উঠেছে। গত দুই দিনে যেভাবে বন্যার পানি বেড়েছে, এভাবে বাড়তে থাকলে ঈদের আগেই বড় বন্যা হবে বলে তিনি মনে করেন।

ব্রহ্মপুত্র নদের পেটে চলে যাওয়া দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নে

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল গফুর সরকার বলেন, কয়েক দিন ধরে নদ-নদীর পানি বাড়ায় তাঁর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের নিচু দ্বীপচরের অনেক বাড়িঘরে ইতিমধ্যে পানি উঠেছে।

উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ায় গত এক সপ্তাহে চিলমারীর নায়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়ার চর, নয়ারচর বাজার গ্রাম, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চর, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ভগবতীপুর, প্রথম আলো চর, চর রাউলিয়া ও নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের গরুভাসার চরের কয়েক শ বসতবাড়ি ভেঙে গেছে।

পাউবোর কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন  বলেন, ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানি যেভাবে প্রতিদিন বাড়ছে, তাতে ঈদের আগে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বড় বন্যা নয়, ছোট বা মাঝারি বন্যার সম্ভাবনা আছে।

তিস্তা নদীতে পানি বাড়ছে। নতুন পানিতে মাছ ধরতে জাল ফেলছেন এক জেলে। মঙ্গলবার সকালে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সংকরদহ এলাকায়

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুড়িগ্রামে উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা নদীভাঙন ও বন্যায় আটকে পড়া পরিবারকে উদ্ধারের জন্য চারটি স্পিডবোট প্রস্তুত করে রেখেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বন্যাকালীন সহায়তা দেওয়ার জন্য ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা, ৫৪১ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার প্রস্তুত রেখেছি।’

কুড়িগ্রামে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী, ঈদের আগে বন্যার শঙ্কা Reviewed by MD.ANISUL HOQUE BABUL on Wednesday, June 21, 2023 Rating: 5

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.