আলেশা মার্টের চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
আলেশা মার্টের চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম শিকদারসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান আজ বুধবার এ আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল।
তাপস কুমার প্রথম আলোকে বলেন, আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেই মামলায় মঞ্জুরুল আলমসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে সিআইডি। শুনানি নিয়ে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অন্য যে তিনজনের বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন মঞ্জুরুল আলমের স্ত্রী সাদিয়া চৌধুরী, এস কে ট্রেডার্সের মালিক আল মামুন ও আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি।
তাপস কুমার পাল আরও বলেন, বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মঞ্জুরুল আলমের নামে গাজীপুরে থাকা সব সম্পদ জব্দের আদেশ দেন আদালত।
২০২০ সালের ২৬ জুলাই আলেশা মার্ট যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইলেন্স নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে আলেশা মার্টের যাত্রা শুরু ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি।
যাত্রা শুরুর পর কম মূল্যে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে বহু গ্রাহককে পণ্য না দিয়ে কিংবা টাকা ফেরত না দিয়ে ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে তারা টাকা পাচার (মানি লন্ডারিং) করে বলে সিআইডির দাবি।
সিআইডি বলছে, চারটি বেসরকারি ব্যাংকে আলেশা মার্টের চারটি ব্যাংক হিসাব থেকে ৪২১ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৩১ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ কেনা হয়েছে। ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে এই সম্পদ কেনা হয়।
মঞ্জুরুল আলমের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের আয়কর বিবরণীর তথ্য তুলে ধরে সিআইডি বলছে, বেতন ও আনুষঙ্গিক বেতন মিলে মঞ্জুরুলের আয় ছিল মাত্র ১৩ লাখ ৯০ হাজার। অথচ সাত মাসের ব্যবধানে তিনি ৩১ কোটি টাকার সম্পদ কেনেন।
মামলায় সিআইডির কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, গ্রাহকের টাকায় আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় প্রায় দুই হাজার শতক জমি কিনেছেন। যার আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ২১ কোটি টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সিআইডির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কম মূল্যে মোটরসাইকেল ও ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ আলেশা মার্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আলেশা হোল্ডিংস লিমিটেড, আলেশা টেক লিমিটেড, আলেশা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট লিমিটেড, আলেশা কার্ড লিমিটেড, আলেশা রাইড লিমিটেড, আলেশা ফার্মেসি লিমিটেড, আলেশা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেড, আলেশা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ও আলেশা অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর চেক প্রতারণার অভিযোগের পৃথক দুই মামলায় মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
গত বছরের ২৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে আলেশা মার্ট কাস্টমারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছিলেন, ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে মূল্য পরিশোধের গেটওয়েতে থাকা ৪২ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ২৫৮ কোটি টাকা পাবেন গ্রাহকেরা।
Reviewed by MD.ANISUL HOQUE BABUL
on
Wednesday, June 21, 2023
Rating:
