ই–অরেঞ্জের আড়াই কোটি টাকা তোলা যাবে না, ১০টি গাড়ি হস্তান্তর নয়: হাইকোর্ট
ই–অরেঞ্জের আড়াই কোটি টাকা তোলা যাবে না, ১০টি গাড়ি হস্তান্তর নয়: হাইকোর্ট
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ থেকে এর প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া মেহজাবীনের আয় করা ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত) থেকে অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ১০টি গাড়িও হস্তান্তর করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ–সংক্রান্ত তিনটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষে আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ শুনানিতে ছিলেন।
এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে তিনটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ই–অরেঞ্জ থেকে সোনিয়া মেহজাবীনের আয় করা ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি এফডিআর আইপিডিসিতে আছে বলে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিবেদনে ১০টি গাড়ির তথ্য রয়েছে। তবে সোনিয়ার টিআইএনের (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) বিপরীতে আয়করে শুধু একটি গাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই টাকা যাতে কেউ উত্তোলন না করতে পারে এবং ১০টি গাড়ি যেন হস্তান্তর না করা হয়—সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিটিআরটিএর প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য আগামী ২৩ জুলাই জানাতে বলা হয়েছে।
ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক শেখ সোহেল রানার (বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক) বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এসেছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।
পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার দাবি করে ৫৪৭ জন গ্রাহকের পক্ষে তাঁদের ছয়জন প্রতিনিধি গত বছরের মার্চে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান করে চার মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ৩ নভেম্বর বিএফআইইউ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইজিপির প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আইজিপির প্রতিবেদন সুস্পষ্ট নয় এবং দুদকের প্রতিবেদন সন্তোষজনক নয় বলে সেদিন উল্লেখ করে আদালত নতুন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশসহ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি আইজিপির প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানান, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে শেখ সোহেল রানা (বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক) তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রেসিডেন্সি কারেকশনাল হোম আলীপুর, ভারতে আটক ছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ মার্চ হাইকোর্ট শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ এবং ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায় বিষয়ে জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
Reviewed by MD.ANISUL HOQUE BABUL
on
Sunday, June 18, 2023
Rating:
